charismatic--kharaj-mukherjee-review-myo
charismatic--kharaj-mukherjee-review-myo

Charismatic Kharaj Mukherjee:

ধরা যাক, অসাধারণ একটা রান্না চলছে, সেরা রাঁধুনী, সমস্ত খাঁটি টাটকা উপকরণ, রান্না নিখুঁত সময়ে, নিখুঁত ভাবে হয়েছে। দেখতেও লাগছে দারুন। কিন্তু সব শেষে খাওয়ার সময় দেখা গেলো, নুন টুকুই দেওয়া হয়নি! ব্যাস, হয়ে গেলো রান্না মাটি। খরাজ মুখার্জী(Kharaj Mukherjee) কে ছাড়া কমার্শিয়াল বাংলা সিনেমার অবস্থাও কিছুটা এইরকম। খুব সাধারণ একটা ডায়ালগ কেও শুধুমাত্র নিজের বচন ভঙ্গির জোরে কিভাবে দর্শকের কাছে উপভোগ্য বানানো যায়, তা বার বার প্রমাণ করেন এই গুনবান ভদ্রলোক। অনেক সময় আমরা দেখি, কোনো দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার বাংলায় রিমেক বানাতে গিয়ে বিখ্যাত কমেডিয়ান ব্রহ্মানন্দ র চরিত্র গুলো এই খরাজ বাবু(Kharaj babu) কে দিয়ে করানো হয়, এবং তা শুধুমাত্র দুই মানুষের শারীরিক সাদৃশ্যের জন্য!

Kharaj Mukherjee

(হায় পোড়া কপাল!) মানুষটি নিজেও তা স্বীকার করেন। কিন্তু তার জন্য কোনোদিন ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়নি, বরং বিনীত ভাবে সমস্ত টুকু স্বীকার করে নেন, অভিনয়ের খাতিরে। আর দিনের শেষে আমরাও হাসি মুখে এই stereotype মেনে নিতে বাধ্য, কারণ প্রতিটি চরিত্রকে তার অভিনয়, সেন্স অফ হিউমার, স্টাইল এ এমন ভাবে তৈরি করে তোলেন, যে আমরা হাসিতে লুটোপুটি খাই। কিন্তু তা বলে ভাববেন না, এই মানুষটার নেতিবাচক চরিত্র ফুটিয়ে তোলার অভিজ্ঞতা নেই। ভালো খারাপ সমস্ত মিলিয়ে খরাজ মুখার্জীর( Kharaj Mukherjee ) সেরা কিছু রোল যা মানুষের ভালোবাসা কুড়িয়েছে।

আওয়ারা (2012):-

“দেখার কোনো শেষ নেই, মার খাওয়ার কোনো বয়স নেই”। এর থেকে বেশি জ্ঞানগর্ভ উপদেশ, আর কোথাও শুনেছেন কি? 2012 সালে রবি কিনাগী পরিচালিত জিৎ সায়ন্তিকার প্রথম collaboration ‘আওয়ারা’ সেভাবে দেখতে গেলে তেলুগু ফিল্ম ‘Krishna’ র রিমেক, তবে এই সিনেমা মূল আকর্ষণ অসাধারণ ডায়ালগ, আর খরাজ মুখার্জীর(Kharaj Mukharjee) মদন মোহন চরিত্রে অভিনয়। “কচুপোড়া” কথাটির এমন কাল্ট ফলোয়িং থাকতে পারে, কে কবে ভেবেছিল! শুধুমাত্র এই ছোটো শব্দটির অদ্ভুত উদ্ভাবনের জন্য খরাজ মুখার্জী (Kharaj Mukharjee) কে অসংখ্য ধন্যবাদ।

পাতালঘর (2003):-

আমাদের প্রজন্মে ছোটবেলায় এই সিনেমা দেখা নিয়ে কাড়াকাড়ি পড়ে যেত। অনেক কিছুই সেই সময় বুঝতে পারতাম না বটে, তবে কার্তিক-সুবুদ্ধির মামা ভাগ্নে জুটিকে দেখা আলাদাই মজার। সুবুদ্ধি নাম টাই মজার, এমন এক মানুষ, যার তিন কুলে কেউ না থাকার দরুন, দিল খোলা স্বভাবে পেয়ে বসেছে। জীবনে ছোট ছোট ব্যাপারে খুশি, বিপদের সময় ভাগ্নে কার্তিকের শরণাপন্ন, খরাজ মুখার্জী এই সিনেমায় অভিনয় করেই নয়, বরং গায়ক হিসেবেও সমাদর কুড়িয়েছিলেন। ‘যেকোনো ভূমিকায়, সমানে লড়ে যাই’ এই গানের জন্য Best Male Playback Award পান।

দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন(2019):-

কৌশিক সেন, কোনো সিনেমায় আছেন, মনে চোখ বুজে বলে দেওয়া যায় ভিলেনের চরিত্রে তিনিই আছেন। পরিচালক ধ্রুব ব্যানার্জী ঠিক এই বাঁধাধরা গতের ই সুযোগ নিয়েছেন, যাতে পুরো সিনেমাতে আমাদের নজর সন্দেহজনক বাড়ির ছেলে ত্রিশূলপাণি দেব রায় এর ওপর থাকে, আর শেষে প্রকাশ হয়, সমস্ত অপকর্মের মুলে ভালো মানুষ অপরূপ দা! খরাজ মুখার্জী(Kharaj Mukharjee) গোটা সিনেমায় এমন শান্তশিষ্ট ভদ্রলোক ছিলেন, যে শেষ পর্যন্ত তাকে পুরোপুরি ভিলেন বলে মেনে নেওয়া অসম্ভব হয়ে ওঠে। আপাতত খরাজ মুখার্জীর(kharaj Mukherjee) বাঁধাধরা গতের বাইরে এই উপস্থিতি চমক এনে দেয়।

লড়াই (2015):-

স্পোর্টস ফিল্ম বাংলায় খুব একটা তৈরি হয় না, কিন্তু যখন তৈরি হয়, মনে ধরে যায়। সাহেব, ইস্টবেঙ্গলের ছেলে, এগারো, কোনি…নাম গুলোই যথেষ্ট। যদিও এর মধ্যে 2015 সালে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের পরিচালিত ‘লড়াই’ নতুন গল্প বলে না। সেই আন্ডারডগ এর কাহিনী, এক ব্যর্থ কোচ এর হারানো সম্মান পাওয়ার ইচ্ছে। তবে ‘লড়াই’ কে আলাদা বানায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি, মাওবাদী আন্দোলন, প্রতিটা মানুষের মধ্যেকার ছোটখাট বিবাদ।

এর মধ্যে নায়ক প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এর ফুটবল কোচিং এ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, স্থানীয় বাসিন্দা মুখতার আলম। এখানে তার মুখে, দর্শকের হাসি ঝরানো ডায়ালগ নেই, কিন্তু আশাবাদী, সরল মানুষ, যে স্থানীয় যুবক ও শহুরে কোচের মধ্যে সংযোগ তৈরি করে, যে ভালো মত অবগত, ফুটবল খেলাটা, এই সন্ত্রাস পীড়িত গ্রামের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সত্যি বলছি এই চরিত্রগুলোর জন্যই আমরা খরাজ মুখার্জীর(Kharaj Mukharjee) প্রেমে পড়ে যাই।

চিরদিনই তুমি যে আমার 2 (2014):-

Out and out নেগেটিভ চরিত্র? ধুর ওই রোলে খরাজ মুখার্জী কে আবার মানবে নাকি! কিন্তু সবাই কে ভুল প্রমাণ করেছেন 2014 তে সৌমিক চ্যাটার্জী পরিচালিত এই ছবিতে। একজন সম্পূর্ণ ঠান্ডা মাথার অসৎ, নির্মম চরিত্রে খারাজ বাবুকে(kharaj babu) কাস্ট করা ঝুঁকিপূর্ন ছিল। তবে এই সিনেমায় অভিনয়ের পরে, ‘পারবনা আমি ছাড়তে তোকে’ বা ‘দুর্গেশগড়ের গুপ্তধন’ এর মত বিভিন্ন শেড এর চরিত্র তে প্রযোজক, পরিচালক রা খরাজ মুখার্জীকে(Kharaj Mukharjee) সুযোগ দিয়েছেন।

ভুতের ভবিষ্যৎ (2012):-

টলিউডে আগের দশকে সব চেয়ে বড় অপ্রত্যাশিত চমক ছিল পরিচালক অনীক দত্তের প্রথম সিনেমা। শুধুমাত্র গল্পের জোরে, এক সিনেমা সমস্ত জটিলতা কাটিয়ে বছরের পর বছর ধরে দর্শককে মাতিয়ে রাখতে পারে, তার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ এই ছবি। তবে এই ছবির অসংখ্য ইউনিক চরিত্রদের মধ্যে থেকে যে দুজনকে এক মুহুর্তেই আমরা মুখে মুখে ঘুরিয়েছি, সে হলো এক হাত কাটা কার্তিক, আর দুই প্রমোদ প্রধান! বড়জোর দুই থেকে তিন মিনিটের উপস্থিতি কিন্তু তাতেই সবাই কুপোকাত। সিনেমার বড় টুইস্ট আনার দায়িত্ত্ব ছিল একা একটি চরিত্রর হাতে, একাই তিনি সমস্ত ভুত কে কুপোকাত করে বুঝিয়ে দিলেন, দর্শকের মনে জায়গা করতে তিন মিনিটই যথেষ্ট। “আর নাম টা মনে রাখবেন, __ পোদান”!

হামি (2018):-

এই সিনেমার গল্প কি তা বুঝিয়ে দেওয়া আমার কম্ম নয়, কিন্তু তাতে ক্ষতি কি! আমরা অনাবিল হাসির ডোজ নিতে এসেছি। সেখানে শিবপ্রসাদ এর লাল্টু বিশ্বাস এর সাথে এক্সট্রা মজা আনে, লোকাল এমএলএ দিলীপ রক্ষিত। এমএলএ এর বউ এর সাথে স্ত্রী মিতালী মারপিট করে এসেছে। দূর্বলমনা লাল্টু তাই এমএলএ কে খুশি করতে উপঢৌকন নিয়ে পার্টি অফিসে হাজির। কিন্তু মোচড় তো তখন আসে, যখন জানা যায় দিলীপ রক্ষিত নিজেও বেজায় অতিষ্ঠ দজ্জাল স্ত্রী কে নিয়ে, বাইরে সিংহ বিক্রম বিধায়ক হলেও, বউয়ের সামনে প্রাণ শুকিয়ে যায়। ছোট রোল, কিন্তু তাতেও হাসির লেভেল আর একগুন বাড়িয়ে দেন খরাজ মুখার্জী(Kharaj Mukharjee)।
এর বাইরে আপনার প্রিয় খরাজ মুখার্জী(Kharaj Mukharjee) অভিনীত চরিত্র কোনটি?

Follow us on Facebook, Twitter

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here