golondaj-dev-isha-anirban-bengali-web-series-myo
golondaj-dev-isha-anirban-bengali-web-series-myo

দেবের(Dev) অভিনয়-

পুজোয় মুক্তি পেয়েছে পাঁচটি বাংলা ছবি। যার মধ্যে গোলন্দাজ অবশ্যই মানুষের প্রতিক্ষার পর এসেছে। অনেক দিন পর বাংলা সিনেমা পুরোনো ছকে ফিরেছে, একসাথে এতগুলো সিনেমার হলে এসেছে। পরিবার বন্ধু সবাই মিলে দেখে আসুন।

Dev
Golondaj


গোলন্দাজ: নগেন্দ্র প্রসাদ সর্বাধিকারী, বাংলার প্রথম ফুটবলার যিনি ইংরেজদের তাদের খেলাতেই হারিয়ে বাঙালিকে দিয়েছিলেন ফুটবল খেলার স্বাধীনতা। গল্প নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই, সবাই কম বেশি জেনেই গেছে গল্প নিয়ে।

Alex o Neil

অভিনয়ের দিক থেকে বলতে গেলে দেব একাই এই ছবির সব, আর হবে নাই বা কেনো অধিকারী থেকে সর্বাধিকারী হতে নিজের মধ্যে যে বদল এনেছে শুধু সেটা দেখতেই একবার হলে যাওয়া উচিত। অনির্বাণ ভট্টাচার্য্য ও ইশা সাহাকে ঠিক প্রধান ভূমিকায় পাওয়া গেছে তা নয়, তাদের স্ক্রিনটাইম কম হলেও অভিনয় নজর কাড়ে। ইশা সাহার মুখে পরিচালক খুব বেশি ডায়ালগ দেননি, তবে তাঁর অভিনয়কেই পুরোপুরি ব্যবহার করেছেন। অনির্বাণকে আরো বেশিক্ষণ স্ক্রিনে পেলে খুব ভালো লাগত। তবে ইন্দ্রাশিস রায়, ক্যাপ্টেন জিতেন্দ্র ব্যানার্জি চরিত্রে অগ্নি, নাড়ুর চরিত্র সত্যি অসাধারণ। অ্যালেক্স ও নেলের কুটিল ইংরেজের চরিত্র আলাদা হাততালির দাবি রাখে।

Wellington club

এমনকি ডায়ালগের ক্ষেত্রেও আলাদাভাবে নজর রেখেছেন পরিচালক ধ্রুব ব্যানার্জি। ইংরেজদের স্বাধীনতার প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করলে প্রায়ই ভাঙা ভাঙা বাংলা বা হিন্দি বলানো হয়, এখানে ইংরেজির ব্যবহার দেখে অনেক বেশি realistic লাগে। আর সব কিছুর মধ্যে অনির্বাণ ভট্টাচার্য্যের দৃঢ় বাংলায় সব কিছুর narration আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

স্বাধীনতা সংগ্রামী ভার্গভ

দেব(Dev), যাকে এক সময় বাংলার চকলেট বয় ভাবা হতো তার এই শারীরিক পরিবর্তন এবং সাথেসাথে অভিনয়ের ম্যাচুওরিটি ভক্তদের আনন্দ দিয়েছে। তার প্রতিটি মুহূর্তের অভিনয়ে রাজকীয়তা ফুটে উঠেছে। কৃষ্ণকমলীনির সাথে প্রেম, বা তার আগের পূর্বরাগ আর সাথে “সে ছিল আমার স্বপনচারিনী” ছোটো ছোটো মুহুর্ত থেকে শেষে কষ্টে রাগে চোখ ঠিকরে জল বেরিয়ে আসা, মুহূর্তগুলি অসাধারন, আর অসাধারণ তার ডায়ালগ বলা। গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠবে মাঝে মাঝে।

Krishnakamalini-nagendrarasad

এডিটিং, কালার গ্রেডিং, ক্যামেরার কাজে পরিচালক ধ্রুব ব্যানার্জি আলাদা নজর দিয়েছেন। খেলার সময়কার ক্যামেরার কাজ ভালো হলে আরো ভালো লাগতো। পুরো সিনেমার কালার গ্রেডিং বেশ আই সুদিং। ছবির গানগুলি আলাদা ভাবে ইউটিউবে সবার প্রশংসা পেয়েছে, তার জন্য শ্রীকান্ত আচার্যকে সাধুবাদ জানাতেই হয়। রবীন্দ্রসঙ্গীতের ব্যবহার আলাদা করে চোখে পড়ে, বিশেষত দেব-ইশার রসায়ন ফুটিয়ে তুলতে। এবং গোলোন্দাজের শেষ গান বন্দেমাতরম, সাথে বাজনা, বিশেষ করে শঙ্খধ্বনি গায়ে কাঁটা দিতে যথেষ্ট। দৃশ্যটা যতোই ক্লিশে মনে হোক না কেনো চোখ ফেরাতে পারবেন না।

কৃষ্নকমলীনি

আন্দোলন ও বিদ্রোহ, অত্যাচারের আরো কিছু দৃশ্য দেখতে পেলে ভালো লাগত। নগেন্দ্র প্রসাদের ছোটোবেলার আরো কিছুটা সময় দেখতে পেলে ভালো লাগতো। ফুটবল খেলার বা প্রতিযোগিতার, এবং তাদের তৈরি হওয়ার পদ্ধতি নিয়ে আরো কিছু দেখতে পেলে ভালো লাগত। পরিচালক ধ্রুব ব্যানার্জি নিশ্চয়ই এই দিকগুলো নিয়ে ভাববেন।

ভার্গভ

Follow us on FacebookTwitter

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here