nokol-mukh-web-series-review-myo
nokol-mukh-web-series-review-myo

Anirban Bhattacharya avinito ‘nokol mukh’:

দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধের পর আবার নতুন করে সিনেমা হল খুলেছে আমাদের মত বাংলা সিনেমার দর্শকের জন্য। উনিশে আগস্ট সাড়ম্বরে মুক্তি পাচ্ছে বিরসা দাশগুপ্ত পরিচালিত অনির্বাণ ভট্টাচার্য( Anirban Bhattacharya ) অভিনীত ছবি ‘মুখোশ’। অবশ্যই এই মুহূর্তে দর্শকদের হলে ফেরাতে সিনেমা নির্মাতাদের কর্তব্য বড় পর্দায় সাধারণ সাদামাটা জীবনের থেকে বাইরে বেরিয়ে এক প্রেক্ষাপট মেলে ধরা। ‘Slice of Life’ এর বদলে এখন দর্শক চাইছে Cinematic Experience।

বাংলা সিনেমায় আপাতত কল্পবিজ্ঞান, রূপকথা, সুপারহিরোকে নিয়ে চর্চা না করা গেলেও বিরসা দাশগুপ্তর নতুন সিনেমা এক মার্ডারমিষ্ট্রি, যা অবশ্যই আমাদের গড়পড়তা রোজনামচা থেকে আলাদা। এই সিনেমার প্রচারে অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য( Anirban Bhattacharya), লেখক-শ্রুতিগল্পকার সায়ক আমানের সাথে হাত মিলিয়ে ‘মিডনাইট হরর স্টেশন’ ইউটিউব চ্যানেলে নিয়ে এসেছেন নতুন অডিও স্টোরি অচেনা মুখ। গল্পের দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন যথাক্রমে সায়ক আমান ও অনির্বাণ ভট্টাচার্য( Anirban Bhattacharya)

এই শ্রুতি গল্পর পর্যালোচনা করতে গেলে প্রথমেই বলতে হয় শুরুতেই লেখক সায়ক আমান সতর্ক করে বলেছেন গল্পে কিছু বিভৎস হিংস্র বর্ণনা রয়েছে, তাই এই গল্প সব শ্রেণীর শ্রোতার জন্যে নয়। তবে যারা মিডনাইট হরর স্টেশনের নিয়মিত শ্রোতা, বা যারা সায়ক আমানের গল্পের সাথে পূর্বপরিচিত, তারা জানেন, বর্বরতা, অত্যাধিক হিংসা সায়ক আমানের গল্পে বেশিরভাগ সময়েই মজুত থাকে।

যেহেতু লেখকের উত্থান ইউটিউবের এই অডিও স্টোরি চ্যানেলের মাধ্যমে, তাই প্রায়শই দেখা যায়, শোনার সময় অতিরিক্ত রোমহর্ষক বানানোর জন্য, গল্পে অপ্রয়োজনীয় সাইকোপ্যাথ, সিরিয়াল কিলার বা আরো সহজে বললে অত্যন্ত অতিরিক্ত বর্বরতা ঢোকানো হয়। অতিপ্রাকৃত হোক বা সিরিয়াল কিলার, অনেক সময় গল্পকে অতিরিক্ত আকর্ষণীয় করতে এলোপাথাড়ি কিছু কনসেপ্ট কে জুড়ে দেওয়া হয়, সে প্রাচীন তন্ত্র চর্চা হতে পারে, কালাজাদু, ভুডুইজম, বা জটিল মানসিক অসুখ। এতে শেষে লজিক খুঁজতে মাথার চুল ছেঁড়ার জোগাড় থেকে যায়।

তবে এটাও বলা উচিত, ওনার কিছু গল্প সত্যি অসাধারণ হয়, সেই সব গল্পই যার বিষয়, কনসেপ্ট সত্যিই শক্ত বাঁধুনিতে থাকে, এবং শোনার অভিজ্ঞতার কথা না ভেবে গল্পে জোর দেওয়া হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, মিডনাইট হরর স্টেশনের টাইটেল মিউজিক সত্যিই অসাধারণ, কত সরল, অথচ অর্থবহ, ইঙ্গিতপূর্ণ। এই ‘অচেনা মুখ’ গল্পতেও আনতাবড়ি‌ ভাবে দুটো তিনটে বিষয়কে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গল্পের ছত্রে ছত্রে রয়েছে মুখোশ সিনেমার প্রসঙ্গ, প্রচার। সিনেমায় সিরিয়াল কিলারের মুখের পরিচিত হুইসেল রয়েছে এই অডিওর বেশ কিছু জায়গায়। গোটা গল্প কেমন বা সায়ক আমানের গল্পপাঠ নিয়ে কোনো রকম আলোচনা বাদ থাক।

বরং এই গল্প শোনা যায় অনির্বাণের অসাধারণ অভিনয় এর জন্য। অনির্বাণ যখন বলেন যে তার রেডিও তে কাজের সূত্রপাত হয়েছে 2018 তে মির্চির ‘সানডে সাসপেন্স’ এর মাধ্যমে, সত্যিই তখন বিশ্বাস করতে অসুবিধে হয়। অনির্বাণের কণ্ঠস্বরে যে সিগনেচার স্টাইল রয়েছে, সেটা শুধুমাত্র থিয়েটারে ব্যবহার হয়েছে জানলে আশাহত লাগে। আশা করবো আগামী দিনে অনির্বাণ আরো অনেক শ্রুতি নাটক ও শ্রুতি গল্পে অংশগ্রহণ করবেন।

বর্তমানে বাংলাতে অডিও স্টোরির জনপ্রিয়তা অত্যন্ত প্রবল। সানডে সাসপেন্স এই মুহূর্তে বাঙালির সংস্কৃতির অংশ হয়ে গিয়েছে। দেখাদেখি বাকি এফএম রেডিও চ্যানেলে এই ধরনের অনুষ্ঠান প্রচুর তৈরি হয়েছে। ইউটিউবে এসেছে অগুনতি নতুন চ্যানেল যারা শুধুমাত্র দর্শকদের সামনে পরিচিত লেখক অথবা স্বরচিত গল্পের নাটকীয় পাঠ্যরূপ পেশ করেন। এই সময়ে বিভিন্ন চ্যানেলের সাথে হাত মিলিয়ে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অন্তত সিনেমার প্রচারের প্রয়োজনে হলেও যদি গল্পপাঠ প্রকাশ্যে আনেন, তবে বিরাট অংশের দর্শকদের কাছে সহজে পৌঁছে যাওয়া যাবে, সেই সাথে শ্রোতাদের কাছে এ এক নতুন অভিজ্ঞতা হবে। সেদিক থেকে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের এই পদক্ষেপ সত্যিই প্রশংসনীয়।

Follow us on FacebookTwitter

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here