murder-in-the-hills-review-myo
murder-in-the-hills-review-myo

‘Murder In The Hills’:

একজন বাঙালি বরেণ্য অভিনেতা, তার ৬৬তম জন্মদিনের পার্টিতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছেন। সাক্ষী থাকছে ঘর ভর্তি চরিত্র, যারা তার জীবনযাত্রার সাথে কোনো ভাবে যুক্ত। অপ্রত্যাশিত ভাবে জড়িয়ে পড়া সাংবাদিকের কাছে ব্যাপারটা ধোঁয়াশার মত। দুর্ঘটনা, নাকি সুপরিকল্পিত মার্ডার। আট পর্বের Hoichoi ওয়েব সিরিজ ‘Murder in the Hills’ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বার করার চেষ্টা করে। “সেই সত্যজিৎ রায়ের কাঞ্চনজঙ্ঘার পর দার্জিলিং নিয়ে আর কোনো ভালো বাংলা ছবি হয়নি” – প্রথম পর্বে অঞ্জন দত্তের মুখে এই সংলাপ অনেক ভাবেই যথার্থ।

আমাদের একবিংশ শতাব্দীর বাংলা সিনেমা বড্ডো বেশি মহানগর কেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। স্বাদ বদলের জন্য যে সমস্ত গল্প কে কলকাতার বাইরে আনা তারা বড্ডো যেনো স্টিরিওটাইপ্ড। সাধারণত অজ পাড়াগাঁ বা প্রত্যন্ত জায়গায় চরিত্রকে এনে ফেলা হয়, যেখানে অবস্থান একটা নেতিবাচক বা উপহাসের বিষয়ে দাঁড়িয়ে যায়। সেখানে দার্জিলিংয়ের ওপর গোটা একটা ওয়েব সিরিজ, এক রকমের স্বাদবদল এনেছে।‌ পরিচালক অঞ্জন দত্তের নতুন ওয়েব সিরিজ ‘Murder in the Hills’কে এক কথায় দুইভাবে বিশ্লেষণ করা যায়।

এক, একটি জটিল সম্পর্কের মার্ডার মিস্ট্রি আর দুই, দার্জিলিং এর অন্যতম সেরা ভ্রমণ গাইড, যা বহু লোককে বাঙালির প্রিয় হিল স্টেশন এ নিয়ে বাধ্য করবেই। আমি কোনোদিন দার্জিলিং যাইনি। তাই ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে দার্জিলিং এর সৌন্দর্য্য আকর্ষণ করেই, সেই সাথে যেভাবে পরিচালক যেভাবে পুরো সিরিজটির মধ্যে রন্ধ্রে রন্ধ্রে দার্জিলিং এর প্রকৃতি, তার কালচার, সাহেবিয়ানা, জীবনযাত্রার ছোঁয়া রেখেছেন, এই প্যান্ডেমিকে ঘরে বসে মন উদাস হয়ে যেতে বাধ্য।

Murder In The Hills

কিন্তু একটা ক্রাইম থ্রিলার হিসেবে কিছুটা প্রত্যাশা অপূর্ণ থেকেই যাচ্ছে এই সিরিজ থেকে। শুরুতেই চরিত্রগুলোর পরিচয় করানোর পদ্ধতি অভিনব। অভিনেতা টোনি রায়, মর্নিং ওয়াকের মত সারাজীবন পথ চলে যখন শেষে বিশ্রাম নিতে বসেছেন, তলব এসেছে, কর্মফল ভোগ করার সময় উপস্থিত। সেই রাতেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা, তবে ঠিক আগেই কিন্তু টোনি রায় সদ্য পরিচিত সাংবাদিক অমিতাভকে একটা ছোট্ট ধাঁধা দিয়ে যান। অমিতাভ, যে একজন অভিজ্ঞ ক্রাইম রিপোর্টার, বর্তমানে নিজের সততার জন্য চাকরি খুইয়ে, এক সংবাদ পত্রের করেসপন্ডেন্ট হিসেবে দার্জিলিং এ রয়েছে, এই ঘটনার ভেতরের সত্যি জানতে উঠে পড়ে লাগে। একের পর এক বেরিয়ে আসে অতীতের অন্ধকারময় ঘটনা।

অঞ্জন দত্ত একজন স্মার্ট পরিচালক সন্দেহ নেই। পুরো প্লটের মধ্যে অন্য একটি সিনেমার ছায়া রয়েছে, বা বলা যায় অন্য একটি রহস্য কাহিনী মনে করায়, কিন্তু মাস্টারস্ট্রোকটা এই, যে সেই অনুপ্রেরণা কে দুর্দান্তভাবে সিরিজের মধ্যে রেখে দিয়েছেন। যদি আপনি কিছুটা আগে থেকে অনুমান করেও ফেলেন, সিরিজের গতি আর দার্জিলিংয়ের হওয়া আপনাকে থামতে দেবে না। এর জন্য এডিটর মোহম্মদ সামসুদ্দিন কে ক্রেডিট দিতেই হবে। সত্যি বলতে গল্পের পটভূমিকা নির্মাণ, চরিত্রায়ণ, চরিত্রদের মধ্যেকার দ্বন্দ্ব, এককথায় অসাধারণ। বাংলা ওয়েব সিরিজ দেখতে বসলে একটা ম্যাড়মেড়ে, শ্রীহীন অবস্থা চোখে পড়ে, সেই জায়গা থেকে সরিয়ে এই স্টাইলাইজেশন, সাহেবিয়ানা যথেষ্ট উপভোগ্য।

অঞ্জন দত্তের প্রজেক্ট মানে দারুন কিছু গানের ব্যবহার থাকবে। নীল দত্তের পরিচালনায় গানগুলি পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে যথার্থ, স্থানীয় ভাষায় গান “Darjeeling hain humro dost” শুনতে ভালোই লাগছে। ক্যামেরার কাজ মনে ধরতে বাধ্য, যেই শহরকে ফুটিয়ে তুলতে সত্যজিৎ রায়কে প্রথমবারের জন্যে রঙ্গীন রিলের প্রয়োজন হয়েছিল, সেই শহরের সৌন্দর্য্য ফুটিয়ে তোলা, একটা সুযোগ এবং একটা দায়িত্বও বটে। আর সেই দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করেছেন ডিওপি রম্যদীপ সাহা। সাউন্ড ডিজাইনে অনির্বাণ গাঙ্গুলীও খুব ভালো।

অভিনয়ে আলাদা ভাবে কারো নাম নেওয়া সম্ভব নয়। কমবেশি প্রত্যেকেই ভালো অভিনেতা আর সেই টানটান অভিনয়ে কোথাও এতটুকু তাল কাটে না। বেশি স্ক্রীনে সুযোগ পেয়েছেন সুপ্রভাত দাস বা সন্দীপ্তা সেন আর দুজনে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছেন ভালই। জানা নেই, তবে সন্দীপ্তা সেনের গাল অল্প ফোলা মনে হলো। উনি কি বয়সটা বেশি দেখাতে প্রস্থেটিক ব্যবহার করেছেন? জানা নেই। রাজদীপ গুপ্ত বরাবর আমার প্রিয় অভিনেতা। ওর কমিক অভিনয় অসাধারণ লাগে। সেই রাজদীপের চেনাপরিচিত মূর্তি ভেঙে এই সিরিয়াস রোল ভালো লাগছে।

আর সবশেষে প্রধান ভূমিকায় অর্জুন চক্রবর্তী নিজের চরিত্রে নতুন কিছু দেখাননি। নেপথ্যকণ্ঠে অর্জুনের এই প্রথম আবির্ভাব, বোধহয় আর একটু ভালো হতে পারত। এই সমস্ত ভালো খারাপ মিলিয়ে ‘Murder in the Hills’ যথেষ্ট উপভোগ্য। আপনি ভ্রমণ ও খাদ্য বিলাসী হলে এই ওয়েবসিরিজ কিন্তু মাস্ট ওয়াচ। আর পোড়খাওয়া অভিনেতাদের নিজেদের মধ্যেকার টানাটানি বাংলা ওটিটি তে চলনসই অ্যামেচার অ্যাক্টিংকে একটা উপযুক্ত দিগনির্দেশ করবে, আশা করতে পারি। Overall, On M.Y. Opinion, ‘Murder in the Hills’ is 73% OK, 61% OP

Follow us on Facebook, Twitter

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here