the-pink-handcuff-shorte-shatan-review-myo
the-pink-handcuff-shorte-shatan-review-myo

The Pink Handcuff:

কিছু বিষয় কল্পনাতে খুব রোমান্টিক মনে হয়। কাউকে কাছে পাওয়ার চেষ্টা, কাউকে জানার ইচ্ছা অনেকটা ফ্যান্টাসির মত লাগে, কিন্তু সেই কাল্পনিক মুহূর্তকে বাস্তবের পর্দায় আনা হয়, দেখা যায় কল্পনা এর বাস্তবের মধ্যে অনেক ফারাক। যেই পরিস্থিতি ফ্যান্টাসিতে খুব সুন্দর লাগে, চোখের সামনে দেখলে আপনার অস্বস্তি হতে পারে।

Addatimes Short Film The Pink Handcuff দেখে দৃশ্যতই আপনার এটাই মনে হতে পারে। খুব পরিচিত বেয়াড়া পরিস্থিতি, যেখানে অজান্তেই দুটো মানুষের সুটকেস স্টেশনে বদল হয়ে যায়। যখন তারা জানতে পারে, তখন তারা নিজের নিজের আশ্রয়ে পৌঁছে গিয়েছে। এই যে এক বাক্স ভর্তি জিনিসপত্র, যা একটা মানুষের জীবন বর্ণনা দিতে সক্ষম, তারা প্রত্যেকে নিজের মত করে নিজের মালিকের গল্প বলতে থাকে। এবার প্রতিটা গল্প নির্ভর করে দুটো বিষয়ের ওপর, এক কে সেই গল্প বলছে, আর দুই কে গল্প শুনছে। কারণ শ্রোতার নিজস্ব বিশ্বাস, তার নিজস্ব চিন্তা, যুক্তি প্রতিটা ঘটনাকে তার মত করে আকার দেয়। এখানে মানুষ দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর। তাই প্রথমে একে অপরকে গ্রহণ করতে অসুবিধায় পড়ে।

গল্পের দুই প্রধান চরিত্র নীল ও চিত্রলেখা তাই যখন ভুলকরে নিজেদের সুটকেস পাল্টে ফেলেছে, তখন ব্যাগ খুলে প্রথমেই চিত্রলেখা অজ্ঞাতপরিচয় মানুষটির জিনিসপত্রে একটি গোলাপী হাতকড়া(The Pink Handcuff) খুঁজে পায়। একটা সহজ অনুমান করা যায়, গোলাপী হাতকড়া (The Pink Handcuff) অপরাধীদের কয়েদ করার জন্য রাখা নেই, বরং passionate love making এর জন্য মানুষটার অধিকারে রয়েছে। এতে একটু সংস্কারী চিত্রলেখার বিদঘুটে লাগে। অপরদিকে অবাঙালী নীল সুটকেস খোলার আগে দেখে নিরাপত্তাবশতঃ সুটকেসে একটি ছোট্ট তালা ঝুলছে। তালা ভেঙে নীল, চিত্রলেখার জিনিসপত্র খুঁজে পায়। একটু লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন, এই ব্যাপারটা চিত্রলেখা ও নীলের মন এর প্রকৃতি টা চেনায়।

তাদের সুটকেস কিন্তু এই মুহূর্তে তাদের মনের একটা ছোট্ট নিদর্শন পেশ করছে। নীল যতটা মনের দিক থেকে খোলামেলা, চিত্রলেখা কিন্তু সেদিক থেকে একটু চাপা স্বভাবের, যা অবশ্যই তাদের চারপাশের পরিস্থিতির ওপর অনেকটা নির্ভর করে। তাই চিত্রলেখা Fifty Shades of G পড়তে পারে, কিন্তু গোলাপী হাতকড়া দেখে অস্বস্তিতে পড়ে। কিন্তু তাদের এই সামগ্রীগুলো আসতে আসতে তাদের মালিকের জীবনটাকে মলাটের বাইরে আনতে থাকে, এবং তারাও প্রাথমিক অস্বস্তি সরিয়ে একে অপরের মধ্যে ডুবে যায়, যেনো তারা সেই রাতটা একই সাথে কাটাচ্ছে।

The Pink Handcuff

প্রথমেই বলেছি, শুনতে খুব রোমান্টিক, কিন্তু যখন পর্দায় দেখেন চিত্রলেখা নীলের ডায়েরী খুলে এক এক করে তার জীবন পড়তে শুরু করছে, দর্শক হিসেবে স্বভাবতই একটু আমি অস্বস্তিতে পড়ি। কারণ আমাদের যেকোনো মানুষের জন্য ডায়েরী সবথেকে ব্যক্তিগত জায়গা, যেখানে আমরা মন খুলে নিজের মতো করে নিজেদেরকে প্রকাশ করতে পারি। আমাদের ভুল ত্রুটি, দুর্বলতা, এমন ঘটনা যা অন্য কারো সাথে ভাগ করে নিতে অসুবিধে আছে, সমস্ত কিছু জমা করা থাকে। বলা হয়ে থাকে অন্য কারো ডায়েরী তাকে না জানিয়ে পড়াটা ভুল। কারণ এক কথায় আমাদের গোপন রহস্য গুলো ওখানে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তাই প্রফেসর শঙ্কুর অ্যাডভেঞ্চার পড়ে আপনি যদি অন্য কারো ডায়েরী পড়াকে বিচার করতে যান, তো মস্ত বড় ভুল করবেন।

তাই আপনি যখন নিজেকে ওই জায়গায় নিয়ে যাবেন, বস্তুত নিজেও অশান্তি বোধ করবেন। দ্বিতীয়ত, এখানে দুজনের একে অপরের প্রতি জন্মানো আবেগ একটু যেনো আরোপিত মনে হয়। কারণ বস্তুত নীলের কাছে চিত্রলেখা কে জানার মত প্রায় কিছুই ছিল না, আর যে দুবার আমরা দুজনের কথোপকথন দেখতে পাই তাতে নীলের অভিজ্ঞতা খুব একটা ভালো ছিল না। অন্যদিকে চিত্রলেখা র ডায়েরী পড়ে নীলের প্রতি ইমোশন জন্মানো ব্যাকগ্রাউন্ড এ রোমান্টিক মিউজিক চালিয়ে প্রায় বলপূর্বক আরোপ করা হয়েছে বলে মনে হয়। সিনেমার দুই চরিত্রে রয়েছেন মিশমী দাস ও অভিষেক ভাটিয়া। পরিচালনা করেছেন অর্ণব চ্যাটার্জী। অভিষেক ভাটিয়ার অভিনয় মোটামুটি, মিশমীর প্রথমদিকের ফোনের দৃশ্য গুলোয় অল্প খামতি রয়েছে। তবে দুজনে এই hypothetic পরিস্থিতির গল্পকে কোনো ভাবে টেনে দিয়েছেন।

তাই on M.Y. Opinion, ‘The Pink Handcuff’ is 43% o.p. and 53% o.k.

Follow us on FacebookTwitter

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here