august-er-prathom-rbibarer-dibbi-review-myo
august-er-prathom-rbibarer-dibbi-review-myo

আমাদের জীবনে বন্ধুত্বের গুরুত্ব ও উপকারিতা জানার জন্য মোটেই ফ্রেন্ডশিপ ডের প্রয়োজন হয়না। আমাদের নিঃশ্বাসের শুরু থেকে শেষ দিন পর্যন্ত একজন সঙ্গীর প্রয়োজন হয়। হ্যাঁ, কখন তার প্রকৃতি বদলে যায়, অনেক সময় আমরা ততক্ষণ তাকে সরাসরি ভাবে বন্ধুর উপাধি দিতে পারি না, যতক্ষণ না তার থেকে বিচ্ছিন্ন হই। সারা বছর বন্ধুত্বের উদযাপনের জন্য meetyouropinion.com নিয়ে এসেছে বাংলা সিনেমা থেকে বাছাই করা সেই সমস্ত চরিত্র, যারা সাথে থাকার পাশাপাশি আদর্শ বন্ধুত্বের সংজ্ঞাও আমাদের বুঝিয়ে যায়।

1. গুরুজী (পোস্ত)

আধুনিক সময়ে সম্পর্কের সমীকরণ ক্রমশঃ পাল্টে যাচ্ছে। আগের মত আমাদের পরিবার আর সমৃদ্ধ, একান্নবর্তী নয়। তাই আজকে আমাদের বাবা মা কিশোর বয়স থেকেই আমাদের সাথে সম্পর্ককে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ বানিয়ে নেয়। আর তার আগে পর্যন্ত সেই দায়িত্ব নেয় আমাদের দাদু, ঠাকুমারা। বাংলা সিনেমা পোস্ত তে সম্পর্কের গল্প গুলো বড় সরল। কিন্তু ঘেঁটে দেখতে গেলে জটিল হয়ে ওঠে। কেরিয়ারে ব্যস্ত বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান পোস্ত থাকে তার ঠাকুরদা ও ঠাকুমার কাছে, যারা খুব ছোট থেকে শিক্ষা দিয়েছে শাসন করে নয়, বরং বুঝিয়ে, ভালোবেসে, বন্ধুর মত করে, যাতে পোস্ত র স্বাভাবিক উচ্ছ্বলতা নষ্ট হয়ে যায়নি। তার শৈশবের জলস্রোত কে শুধু নির্দিষ্ট দিকে সঞ্চালন করেছেন, বাঁধ দিয়ে তাকে স্থবির, অবরুদ্ধ করেননি। আমাদের প্রত্যেকের ছোটবেলায় এইরকম একজন বন্ধু থাকলে কি মজাই হতো, না?

উপলব্ধ:- Hoichoi

2. অদিতি সেনগুপ্ত (নায়ক)

একজন পর্দার বাংলা সিনেমার অভিনেতা প্রত্যেকের সমালোচনার পাত্র। অনেক সমাজ বোদ্ধারা সমাজের অবনতির জন্য সরাসরিভাবে এবং একমাত্র সিনেমা জগতের মানুষদেরকে দায়ী করেন। তাদের ব্যক্তিগত জীবন, তাদের স্ট্রাগল, সাফল্য-ব্যর্থতা , সবার কাছে কাটাছেঁড়ার বস্তু, অবজ্ঞার জায়গা। যে অভিনেতা যত বেশি সফল তাকে ঘিরে বিষোদগার আরো বেশি। এরকম অবস্থায় কোনো একজন মানুষকে তো প্রয়োজন হয়, যে কোনো রকম বাছবিচার না করে টিকা টিপ্পনী না দিয়ে, শুধু আমাদের মনের কথা গুলো শুনবে, আমাদের ভাবনা, আমাদের অনুভূতি গুলো জানবে?

এরকম বন্ধু পাওয়া বড় মুশকিল। তবে ভাগ্যের জোরে সুপারস্টার অরিন্দম মুখার্জী এই রকম একজন সঙ্গীকে এক দিনের জন্য পেয়েছিলেন, যে নিজের স্বার্থ ভুলে, সমস্ত পূর্বধারনা, পক্ষপাত সরিয়ে রেখে সেই মহানায়কের ভিতরটা কে জেনেছিলেন, শুনেছিলেন। তার অন্যায়গুলোতে কমেন্ট করে তাকে আরো অপরাধবোধ চাপিয়ে দেননি, বরং তার অনুতাপের আবেগ কে বাইরে আসতে দিয়ে, মানুষটাকে নিশ্চিত আত্মহননের পথ থেকে সরিয়ে এনেছিলেন। আজকের দিনে, আমাদের প্রত্যেকের এই শর্তহীন, পক্ষপাত শূন্য বন্ধুদের অভাব, যার জন্য আমরা ছুটে যাচ্ছি মনোবিদের কাছে। কিন্তু ভায়া, আমরা প্রত্যেকেই অদিতি সেনগুপ্ত হয়ে, আমাদের চারপাশের অরিন্দম মুখার্জীকে সাহায্য করতে পারি আর ঠিক উল্টোটাও হতে পারে, তবেই তো প্রকৃত বন্ধুত্ব।

উপলব্ধ:- Zee5

3. অঞ্জন (রয়েল বেঙ্গল টাইগার)

আপনি সহজ ভালোমানুষ হলেও, আপনার চারপাশের পরিবেশ আপনার এই গুনকে প্রশংসা করবে, সেটা আশা করা অনুচিত। অভি অন্যায়ের সঠিক ভাবে প্রতিবাদ করতে পারে না। যেকোনো অশান্তি থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করে। আর তার এই স্বভাবের সুযোগ নিতে শুরু করে ভাড়াটে থেকে শুরু করে অফিসের উচ্চপদস্থরা। প্রচণ্ড অপমানে, মানসিক যন্ত্রণায় যখন অভি প্রায় ধসে পড়েছে, সেই সময় তার জীবনে আসছে কলেজের পুরোনো বন্ধু অঞ্জন। অঞ্জন বুঝিয়ে দেয়, যে পরিণতির ভয় না করে, শিরদাঁড়া সোজা রেখে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়।

অভি পাল্টে যায় একজন সাহসী মানুষে যে ভুল কে ভুল বলতে ভয়ও পায়না, আর কেউ দমিয়ে দিতে চাইলে তাকে শায়েস্তা করতেও ছাড়ে না। আমাদের দুর্বল সময়ে, আমাদের মোটিভেট করতে এইরকম একজন বন্ধুর পাশে থাকা দরকার নয়কি? তবে এই বাংলা সিনেমা দেখার আরো দুটি কারণ আছে। এক, এই বাংলা সিনেমার গল্প ও প্রযোজনা বিখ্যাত বলিউড পরিচালক নীরজ পাণ্ডের। আর দুই সিনেমার গল্প অনুপ্রাণিত Chuck Palahniuk এর বিশ্বখ্যাত উপন্যাস ‘Fight Club’ থেকে। Amazing না!

উপলব্ধ :- Netflix, Zee5

4. ফেলুদা (জয় বাবা ফেলুনাথ)

ছোটবেলায় প্রদোষ মিত্তিরের কার্য সম্ভার পড়ে নিজেকে তোপসের জায়গায় বসায়নি এমন বাঙালী কমই আছে। কল্পনায় ফেলুদা আমাদের সবার বন্ধু হলেও গল্পের পাতায় এবং চলচ্চিত্রে ফেলুদার পরম প্রিয় বন্ধু শ্রী লালমোহন গাঙ্গুলি ওরফে জটায়ু। সোনার কেল্লা অভিযানে হঠাৎ করে সাক্ষাৎ হওয়া লালমোহন বাবুর সাথে বয়সের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ফেলুদার সাথে এক পরম বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সেই বন্ধুকে তিনি মাঝে মাঝে অল্প খোঁচা দেন, ইতিবাচক সমালোচনার মাধ্যমে তার বদভ্যাস গুলোকে শুধরে দেন, তার সাহিত্য চর্চায় সাহায্য করেন, তাকে একটু একটু করে সাহসী করে তোলেন।

কিন্তু বেনারসে বেড়াতে এসে হঠাৎ করে জড়িয়ে পড়া এক তদন্তে যখন বাইরের এক লোক জটায়ু কে চরমভাবে বিপর্যস্ত করেন, তখন ফেলুদা তার বন্ধুর অপমানের জন্য শেঠ মগনলাল কে বুদ্ধির প্যাঁচে উচিত শিক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর হন। তিনি শপথ করেন হয় এই অপমানের বদলা নেবেন, নয়ত নিজের পেশা ছেড়ে দেবেন। এমন বন্ধুত্ব কিন্তু আমরাও নিজেদের জীবনে দেখি। আমাদের বন্ধুকে অন্য সময়ে যতই ব্যঙ্গ করি, তাকে নিয়ে মশকরা করি, তৃতীয় অযাচিত কোনো ব্যক্তি বন্ধুকে অপমান করলে কিন্তু রুখে দাঁড়াই। নয়তো আর বন্ধু কি জন্য।

উপলব্ধ:- Zee5

5. অদিতি, শোভারানি (মুখার্জীদার বউ)

আপনি যেকোনো একটি ন্যাশনাল বা আঞ্চলিক টেলি সিরিয়াল দেখুন। খুব সহজ গল্প কি পাওয়া যাবে? যে বৌমা ও শাশুড়ির মধ্যে বিবাদ। তবে ব্যাপারটা কিছুটা বাস্তব থেকে অনুপ্রাণিত নয় কি? বন্ধুত্ব কিন্তু দুজনের সমান প্রচেষ্টায় সম্ভব। অনেক সময় সম্পর্কে কিছু ঝগড়া, কথা কাটাকাটি আসে। এখন যদি নিজের পক্ষ সমর্থন করে ঝগড়ায় জিততে চাই, তো সম্পর্ক নষ্ট হবে। আর সম্পর্ক ভালো রাখতে গেলে ওই ছোটো খাটো বচসা গুলোয় একটু আধটু সরে আসতে হবে। তার চেয়ে সবচেয়ে ভালো হয় যে আমি উলটো পিঠের মানুষটাকে বোঝার চেষ্টা করি, তার পরিস্থিতি কেমন, তার সমস্যার কারণ কি।

তার জায়গায় নিজেকে দাঁড় করিয়ে নিজের অসুবিধের সাথে মানিয়ে নেওয়াই কিন্তু বন্ধুত্ব। আর বন্ধুত্বের এই সহজ সরল সম্পর্কটা সবথেকে ভালো আমরা দেখেছি পুত্রবধূ অদিতি আর শাশুড়ি শোভারানির মধ্যে। দুজনেই একে অপরের ওপর বিরক্ত, ক্ষুব্ধ। কিন্তু সামনের মানুষটাকে বুঝে, সময় দিয়ে, নিজের মতো মানিয়ে নিয়ে দুজনেই কিন্তু একে অপরের পরম সঙ্গী হয়ে ওঠে। এই সমীকরণ ব্যবহার করলে আর টেলি সিরিয়াল গুলো চলবে? খচাখচি টেনে না যেয়ে, বরং এই উপায় মেনে নিলে অনেককে কিন্তু নতুন করে গল্প ভাবতে হবে।

উপলব্ধ:- Hoichoi

Follow us on Facebook, Twitter

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here